প্রায় সাতটি দেশের বিশ্বকাপ জার্সি তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশে! (এম এ অনন্ত জলিল )

54bf37e6d990a27cdda12103b3d8fdd8-9

এম এ জলিল অনন্ত, চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এজেআই গ্রুপ |

জার্সির মাধ্যমে বাংলাদেশ এত বড় একটা আয়োজনের অংশ হতে পারছে, কেমন লাগছে আপনার?
ফুটবল বিশ্বকাপে আমরা খেলছি না ঠিকই, কিন্তু মাঠে থাকছি। আমাদের দেশে তৈরি জার্সির মধ্য দিয়েই খেলার একটা অংশ হয়ে যাচ্ছি। বিভিন্ন দেশের দর্শক নিজেদের প্রিয় দলের জার্সি গায়ে বিশ্বকাপ আসরে ঢুকবেন, সেসব জার্সি তৈরি করছি আমরাই। সবচেয়ে বড় কথা, এসব জার্সির ট্যাগে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা থাকবে। বিষয়টি আমাদের জন্য বড় গর্বের।

বছরের অন্য সময়ের তুলনায় আর্থিক দিক থেকে কি আপনারা এ সময়ে বেশি লাভবান হচ্ছেন?
অবশ্যই লাভবান হচ্ছি। পোলো ব্র্যান্ডের জার্সিগুলোর দাম আমরা প্রতি পিসের জন্য সর্বনিম্ন নয় ডলার করি নিচ্ছি। অন্য সময় আমরা সাধারণত একই ব্র্যান্ডের এই পোলো শার্টের দাম প্রতি পিস সাড়ে ছয় ডলার থেকে সাত ডলার রাখি। এতে করে এখানে যেসব গার্মেন্টস এই কাজ করছে, তারা প্রতি পিসে বাড়তি দুই ডলার করে পাচ্ছে। ফলে আমরা রেমিট্যান্সও বেশি করে আনতে পারলাম। আমরা দুদিক থেকেই লাভবান। এক. বিশ্বকাপে একধরনের অংশগ্রহণ, দুই. ব্যবসায়িকভাবে লাভবান। এ ছাড়া বাংলাদেশের পরিচিতিও বাড়বে। এতে করে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প আরও প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনাও থাকবে।

আপনার প্রতিষ্ঠানে বিশ্বকাপ নিয়ে উত্তেজনা কেমন?

আমার এখানে প্রায় সাতটি দেশের জার্সি তৈরি হচ্ছে। এগুলো গায়ে পরে প্লেয়াররা মাঠে নামবেন না। ফুটবল-ভক্তরাই পরবেন। আর এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিখ্যাত ব্র্যান্ড পোলোর অর্ডারে তৈরি হচ্ছে। বিশ্বকাপের মাঠে এসব জার্সি গ্যালারি রাঙাবে। এ জন্য আমরা ফ্যাক্টরির সবাই উৎসাহিত। নারী শ্রমিকেরা তো ফুটবল কম দেখেন। এখানে পুরুষ শ্রমিকদের মধ্যে জার্সি নিয়ে বেশি উত্তেজনা। অনেক শ্রমিকই তাঁদের পছন্দের দলের জার্সি আমার কাছ থেকে নিয়েছেন। তাঁরা খেলা দেখার সময় প্রিয় দলের জার্সি গায়ে পরে খেলা দেখবেন বলেও জানিয়েছেন।
জার্সির অর্ডার কীভাবে পেলেন?
আমরা তো আগে থেকেই পোলো ব্র্যান্ডের কাজ করি। প্রতি মাসেই সাড়ে ছয় লাখ পিস পোলো ব্র্যান্ডের টি-শার্ট রপ্তানি করি। তাদের সঙ্গে আমার কোম্পানির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। আমাদের কাজের সুনামও আছে। তাই এবার বিশ্বকাপের জার্সি নিয়মিত অর্ডার থেকেই পোলো আমাদের দিয়েছে।
অর্ডার পাওয়ার পর কেমন লেগেছে?
অর্ডারটা পাওয়ার পর আমার ফ্যাক্টরির সব সেক্টরের প্রধানদের নিয়ে মিটিং করি। এ কাজটি তো আর সাধারণ ব্যাপার না। এতে আমাদের দেশের সুনামও জড়িয়ে আছে। সবার সঙ্গে কথা বলেই কাজ শুরু করেছি। কাজটি পাওয়ায় আমাদের শ্রমিকেরা ও আমি খুবই খুশি।
কতগুলো জার্সি তৈরি করছেন এবার?
ছেলেদের জার্সি তিন লাখ ৮০ হাজার ও মেয়েদের জন্য এক লাখ ৫০ হাজার জার্সি তৈরি করছি। এর মধ্যে অতিরিক্ত থাকবে প্রায় সাড়ে ২৬ হাজার পিস। এগুলো আমাদের দেশের জন্য। এখান থেকে প্রায় চার হাজার পিসই আমাদের ফ্যাক্টরির শ্রমিকদের জন্য রাখছি। আর ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বাংলাদেশের বড় বড় শপিং মলের শোরুমগুলোতে বিক্রির জন্য উঠবে ২১ হাজার পিস জার্সি।
সাক্ষাৎকার: শফিক আল মামুন (প্রথম আলো থেকে ) 

পোষ্টটি লিখেছেন: Megh Balika

এই ব্লগে 43 টি পোষ্ট লিখেছেন .

Leave a Reply